নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় মো. খলিলুর রহমান (৩৫) নামের এক দোকানদারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
খলিলুর রহমান চেংজানা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি সাহিতপুর বাজারে মনোহারি পণ্যের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি বোতলজাত পেট্রোল বিক্রি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে একই গ্রামের সুমন মিয়া খলিলুর রহমানের দোকানে যান। এ সময় তিনি পেট্রোল ও নগদ টাকা দাবি করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খলিলুর রহমান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে দোকানের সামনে রাখা দুই লিটারের একটি বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে তাঁর শরীরে ঢেলে দেন সুমন। পরে তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আগুনে খলিলুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। একই সঙ্গে তাঁর দোকানের কিছু মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা খলিলুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সুমন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। দগ্ধ দোকানদারও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুমন মিয়া কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে স্থানীয়রাও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে জানান ওসি তরিকুল ইসলাম।
জি বাংলা ডেস্ক